আফ্রিকাইউরোপএশিয়াবিশ্ব

রাশিয়ার তেল আমদানি বন্ধের প্রস্তাব নিষেধাজ্ঞার ‘সীমা’ ছাড়িয়েছে: হাঙ্গেরি

নন্দন নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফর ডার লিয়েনের প্রস্তাবের কড়া সমালোচনা করেছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। প্রস্তাবটি ‘সীমা’ ছাড়িয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোর ঐক্যের ওপর ‘হামলা’ চালানো হচ্ছে। খবর এএফপির
স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার হাঙ্গেরির সরকারি বেতারে ভিক্টর অরবান বলেন, ‘ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ইউরোপের দেশগুলোর ঐক্যের ওপর হামলা চালিয়েছেন। আমরা প্রথম থেকেই এটা স্পষ্ট করেছিলাম যে এর (নিষেধাজ্ঞা) একটা সীমা আছে। তাঁরা এই সীমা অতিক্রম করেছেন।’ ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার জেরে মস্কোর ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ ও মিত্রদেশগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা দিতে গত বুধবার ইইউর দেশগুলোর প্রতি প্রস্তাব দেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ফর ডার লিয়েন। প্রস্তাবে রাশিয়ার তেল, ব্যাংক, সম্প্রচারমাধ্যম ও ইউক্রেন যুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ৫৮ জনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়। নিষেধাজ্ঞার ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কমিশনের প্রধানের ভাষ্যমতে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের আমদানি বন্ধ করা হবে। আর ২০২২ সালের শেষ নাগাদ বন্ধ হবে পরিশোধিত তেল আমদানি। হাঙ্গেরি সরকারের দেওয়া তথ্য বলছে, দেশটির জ্বালানি তেলের ৬৫ শতাংশই আমদানি করা হয় রাশিয়া থেকে। আর রাশিয়া থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি হয় চাহিদার ৮৫ শতাংশ। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে হাঙ্গেরির অর্থনীতির ওপর ‘পারমাণবিক বোমা’ হামলার মতো ক্ষতি হবে। এদিকে রাশিয়ার অর্থোডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্চ কিরিলকে নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবে রাখারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ভিক্টর অরবান। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় চার্চের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের রাখা হলে তার অনুমোদন দেবেন না তাঁরা।

সম্পর্কিত নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button