বিশ্বভারত

গুগলের স্বীকৃতি পেল দ্বাদশে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর তৈরি মাস্ক

করোনাভাইরাসে টালমাটাল পুরো বিশ্ব। আর দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে নতুন ভেরিয়েন্টে ভারতের অবস্থা জেরবার। শনাক্ত ও মৃত্যুতে রেকর্ড গড়ে চলেছে দেশটি। বিশ্বের অনেক দেশ সহায়তা করছে দেশটিকে। তবে এর মধ্যে করোনা থেকে বাঁচতে মাস্কে নতুন পথ দেখাল দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ভারতের পশ্চিমবঙ্গের স্কুলশিক্ষার্থী দিগন্তিকা বসু তৈরি করেছে একটি বিশেষ মাস্ক। টেক জায়ান্ট গুগলের আর্টস অ্যান্ড কালচারে জায়গা করে নিয়েছে দিগন্তিকা বসুর নিজের হাতে তৈরি করা এ মাস্ক। তার বানানো মাস্কটি দুনিয়ার সেরা নকশার একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।সম্প্রতি ইন্ডিয়া টাইমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিগন্তিকার তৈরি বিশেষ মাস্ক স্বীকৃতি পেয়েছে গুগলের। করোনাভাইরাস প্রতিরোধকারী এ বিশেষ মাস্ক গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচারের ‘অনুপ্রেরণামূলক ডিজাইন’ বিভাগের সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছে। গুগলের আর্টস অ্যান্ড কালচারে সাধারণত বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নানা বিষয়ে উৎসাহমূলক নকশার ছবি বা ভিডিও চাওয়া হয়। সেই ভাবনাগুলো নিয়ে তৈরি হয়েছে এ প্ল্যাটফর্ম। সেখানে এখন দ্বাদশে পড়ুয়ার নাম আছে। দিগন্তিকা বসু পূর্ব বর্ধমানের মেমারি ভিএম ইনস্টিটিউশন ইউনিট–২-এর দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ইতিমধ্যে ১১টি উদ্ভাবনের জন্য ১৭ বছর বয়সী দিগন্তিকা বসু বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।

গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচার একটি অনলাইন জাদুঘর। সেখানে স্থান করে নেয় বিশ্বের সেরা সাংস্কৃতিক নিদর্শন থেকে শিল্পকর্ম ও সৃষ্টিগুলো। এখানে এক ক্লিকে দেখে নেওয়া যায় পুরো বিশ্বের নিদর্শন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই ভার্চ্যুয়াল জাদুঘরটি তৈরি করা হয়েছিল। তারপর থেকে নানা শিল্পকলা স্থান পেয়েছে সেখানে। এবার সেখানেই ঠাঁই পেল মেমারির শিক্ষার্থীর অভিনব এ মাস্ক। দিগন্তিকা বসুর প্রতিভার সাক্ষী এখন থাকবে বিশ্ব।করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর মাস্কের ব্যবহার আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে দিগন্তিকার তৈরি বিশেষ মাস্ক অনন্য। এটি ধুলোবালু থেকে মুক্ত রাখবে, ভাইরাস প্রতিরোধ করবে, একই সঙ্গে ইনহেলারের কাজও করবে। দিগন্তিকা মাত্র ১৭ বছর বয়সে এই বিশেষ মাস্ক তৈরি করেছে, যা সহজে ও কম খরচে করোনা মোকাবিলায় সাহায্য করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।দিগন্তিকা বসু মাস্কের বর্ণনা দিয়েছে গুগল। দিগন্তিকা আবিষ্কার করেছে, নেতিবাচক আয়নগুলো যখন বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তখন তারা বেশির ভাগ ভাইরাসকে ধ্বংস করে দেয়। সম্পূর্ণ ভাইরাস ধ্বংস নিশ্চিত করতে সাবান-পানির মিশ্রণ দুটি রাসায়নিক ফিল্টারে যুক্ত করা হয়েছে, যা গৃহীত বাতাসকে বিশুদ্ধ করে।মুম্বাইয়ের মিউজিয়াম অব ডিজাইন এক্সলেন্সের সহায়তায় দিগন্তিকা এ মাস্ক তৈরি করেছে। গুগল জানিয়েছে, ইতিমধ্যে এই মাস্কের বিষয়ে সাধুবাদ জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ বিশেষ মাস্ক দ্রুত ভারতের বাজারে আনার চেষ্টা চলছে।

এমন সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত দিগন্তিকা। সে বলে, ‘এটা জানতে পেরে খুব ভালো লাগছে যে আমার তৈরি ভাইরাস প্রতিরোধক মাস্ক গুগল আর্টস অ্যান্ড কালচার বিশ্বের সেরা ১০টি অনুপ্রেরণামূলক ডিজাইনের মধ্যে স্থান দিয়েছে।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button