কানাডাবিশ্বযুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারির মধ্যেও আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রিতে রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারির মধ্যেও আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। গত বছর থেকে দেশটিতে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রিতে ঊর্ধ্বমুখী ভাব দেখা যাচ্ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত বছর এক-পঞ্চমাংশ মার্কিন প্রথমবারের মতো অস্ত্রের মালিক হয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় এ অস্ত্র বিক্রির হার অনেক বেড়ে যায়।

গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ গুলির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্র বিক্রি বৃদ্ধির সঙ্গে গুলি করে মানুষ হত্যার ঘটনাও হু হু করে বাড়ছে। এ নিয়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দুষছেন।নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির হার গত বছর থেকে অনেক বেড়ে গেছে। অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি মার্কিন এখন আগ্নেয়াস্ত্র কিনছেন। এর আগে এত বেশি আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির হার লক্ষ করা যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশক ধরেই আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকে তা আরও বহুগুণে বেড়ে গেছে। ১৯৯৮ সাল থেকে মার্কিন সরকার প্রথমবারের মতো অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ‘ব্যাকগ্রাউন্ড চেক’ করার শর্ত আরোপ করে। ক্রেতাকে যাচাই করা শুরু করে। সে সময় প্রথম এক সপ্তাহেই ১০ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রির রেকর্ড করা হয়। এখনো যাচাই-বাছাইয়ের মধ্য দিয়েই মার্কিনদের অস্ত্র কিনতে হচ্ছে। অস্ত্র বিক্রিতে আগের সেই রেকর্ড এবার পেরিয়ে গেছে। এবার চলতি বসন্তের এক সপ্তাহে ১২ লাখ অস্ত্র বিক্রি হয়েছে।এ নিয়ে ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর রিসার্চ সেন্টার একটি জেনারেল সোশ্যাল সার্ভে পরিচালনা করেছে। সেই জরিপের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯ শতাংশ পরিবারে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। ২০১৬ সালে ৩২ শতাংশ পরিবারে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। লস অ্যাঞ্জেলসে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বন্দুক হামলা ও মৃতের ঘটনা ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বন্দুক হামলার শিকার ব্যক্তির সংখ্যা ৬৮ শতাংশ ও বন্দুক হামলার ঘটনা ৫৬ শতাংশ বেড়েছে।লস অ্যাঞ্জেলস পুলিশ বিভাগের প্রধান মাইকেল মুর বলেন, নানা হামলার ঘটনায় জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে তিন হাজারের বেশি বন্দুক জব্দ করা হয়েছে। দিনে গড়ে অন্তত ২৫টি বন্দুক জব্দ করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় চলতি বছর গ্রেপ্তারের হার ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলার ঘটনাও অনেক বেড়ে গেছে। এসব হামলার ঘটনায় অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। এ কারণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতাকে আন্তর্জাতিকভাবে বিব্রতকর একটি বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন। গত এপ্রিলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণে তিনি কয়েকটি আলাদা নির্বাহী আদেশ জারি করে বলেছেন, সংবিধানের কোনো সংশোধনীই চূড়ান্ত নয়।আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে প্রদত্ত অধিকারকে সম্পর্কিত করে বিতর্ক তোলা সম্পূর্ণ অমূলক বলে তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীতে নাগরিকদের অস্ত্র রাখার অধিকার নিশ্চিত করা আছে। এ অধিকার নিয়ে মার্কিন সমাজ ব্যাপকভাবে বিভক্ত।

সে সময় রিপাবলিকানরা এ নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান দলের নেতা কেভিন ম্যাকার্থি বলেন, বাইডেন অপরাধীদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করছেন না। উল্টো তিনি আইন মেনে চলা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করছেন। সংবিধান অনুসরণ করে যেকোনো সমস্যার সমাধানের কথা বলেছেন তিনি।

সম্পর্কিত নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button