কানাডাযুক্তরাষ্ট্র

ইলন মাস্কের চোখ এবার টেলিকম ব্যবসায়

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, যা ওপরে ওঠে, তাকে অবশ্যই নামতে হয়। ক্রিপটোকারেন্সি বিটকয়েনের বেলায় কথাটি নিশ্চয়ই খাটে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে টেসলার সহপ্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক বিটকয়েন সমর্থন করে টুইটারে পোস্ট দেন।বিটকয়েনের বিনিয়োগের ঘোষণাও দেন। এতেই হু হু করে বেড়ে যায় এ ক্রিপটোকারেন্সির দাম। কিন্তু মে মাস আসতে না আসতেই তিনি বিটকয়েনের বিষয়ে সতর্ক করেন সবাইকে। বিটকয়েন ব্যবহার করে গাড়ি কেনার সুবিধা বন্ধ করে দেয় তাঁর প্রতিষ্ঠান টেসলা। আর এতেই কমতে শুরু করে বিটকয়েনের দাম। ইলন মাস্কের আগ্রহ শুধু বিটকয়েন নিয়েই আটকে নেই। তাঁর প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স কাজ করছে বিশাল রকেট নিয়ে।

গত ৫ মে স্পেসএক্সের বিশাল ‘স্টারশিপ’ রকেটের প্রোটোটাইপ সংস্করণ টেক্সাসের আকাশে পরীক্ষামূলকভাবে ওড়ে। এরপর তা আবার ফিরে আসে লাঞ্চপ্যাডে। স্টারশিপের জন্য অনেক উঁচুতে ওঠার প্রথম কোনো পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন এটি ছিল না। তবে স্পেসএক্সের জন্য সুখবর হচ্ছে, কোনো দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ড ছাড়াই সফলভাবে স্টারশিপ রকেটের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।স্পেসএক্স নামের এ রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি ২০০২ সালে ইলন মাস্ক প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এখনো অবশ্য বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে বেশি পরিচিত। তবে টেসলার মতোই স্পেসএক্সের ক্ষেত্রেও তিনি অপ্রচলিত প্রযুক্তিই বেছে নিয়েছেন আর তাতে উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। রকেট শিল্পে যাঁরা এত দিন ধরে জায়গা দখল করে ছিলেন তাদের কাঁপিয়ে দিয়েছেন।

ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, টেসলার মিশন হচ্ছে টেকসই শক্তিতে বিশ্বের স্থানান্তরকে ত্বরান্বিত করা। আর স্পেসএক্সের মিশন আরও বৃহত্তর। ইলন মাস্ক চাইছেন, পৃথিবীর বাইরেও মানবসভ্যতার স্থানান্তর করতে। তিনি মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপনের মধ্য দিয়ে এর সূচনা করতে চান। তাঁর এ ভবিষ্যৎ লক্ষ্যের কারণে টেসলার মতোই স্পেসএক্সের মূল্যায়নও তাই বেড়েছে বহু গুণে।তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান পিচ বুকের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলে শেষ হওয়া স্পেসএক্সের সর্বশেষ তহবিল সংগ্রহের সময়ে স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০২০ সালের আগস্টে ছিল ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান সিটি ইনসাইড স্পেসএক্সকে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামি স্টার্টআপের তালিকায় তিনে রেখেছে।১৯ বছর বয়সী একটি প্রতিষ্ঠানকে স্টার্টআপের তালিকায় রাখা অদ্ভুত শোনাতে পারে। স্পেসএক্সের বিশাল এ মূল্যায়ন অবশ্য প্রতিষ্ঠানটি যে ব্যবসা করে তা থেকে আসে না। এর বিনিয়োগকারীরা ভবিষ্যতের কথা ভেবেই এতে বিনিয়োগ করছেন। তাই স্পেসএক্স একদিকে যেমন মঙ্গল গ্রহ জয়ের উচ্চাভিলাষ দেখাতে পারছে, তেমনি বৈশ্বিক টেলিকম জায়ান্টে রূপান্তরিত হওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এ ক্ষেত্রেও ইলন মাস্কের কৌশল খাটবে বলে বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী। স্পেসএক্স বর্তমানে তাদের স্টারলিংক নামের একটি সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে এ সেবা পাওয়া যাবে। স্টারলিংকের বৃহত্তম স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাবেন গ্রাহক। এ সেবা বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের কাছ থেকেই সাড়া মিলেছে ইলন মাস্কের উদ্যোগের। আরও অনেক দেশ এ সেবা নিতে আগ্রহী। তবে এ ইন্টারনেট সেবা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। সব দেশের সরকার এতে সাড়া দিচ্ছে না। কারণ, এ ধরনের ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ আরোপ করা জটিল হবে।

সম্পর্কিত নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button