এশিয়াকোভিড-১৯বিশ্ব

জাপানে টিকাদানে তোড়জোড় অলিম্পিক এগিয়ে আসায়

দেশে টিকাদান প্রক্রিয়ায় ধীরগতির জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হওয়ার পর জাপান সরকার এখন দৈনিক টিকা দেওয়ার সংখ্যা দ্রুত বাড়াতে দেশজুড়ে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। জাপানের টিকাদান কর্মসূচি মূলত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে অনেক দেরিতে শুরু হয় এবং এখন পর্যন্ত একটি টিকা নিতে পারা মানুষের সংখ্যা পশ্চিমের উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। এ নিয়ে জাপান এখন দেশে–বিদেশে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগার সরকার এখন টিকাদান প্রক্রিয়ার গতি দ্রুত বাড়িয়ে নেওয়ার উপায় খুঁজছে। রাজধানী টোকিও এবং ওসাকায় আত্মরক্ষা বাহিনী নামে পরিচিত দেশের সামরিক বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণে বিশাল আকারের যে দুই টিকাদানকেন্দ্র গত ২৪ মে কাজ শুরু করে, সেখানে এখন সম্মিলিতভাবে প্রতিদিন মোট ১৫ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের নিজ নিজ এলাকায় চালু করা টিকাদানকেন্দ্রগুলোতে এখন ধীরে হলেও টিকাদান প্রক্রিয়ায় গতি সঞ্চারিত হচ্ছে।

জাপানের রাজধানীতে ইতিপূর্বে স্থগিত হয়ে যাওয়া ২০২০ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক এক বছর পর নতুন নির্ধারিত সময়ে শুরু হওয়ার আগে সময় হাতে আছে এখন ৫০ দিনের মতো। এই সময়ে দেশকে সম্পূর্ণভাবে টিকাদানের আওতায় নিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব কাজ। এই হিসাব মাথায় রেখে সরকার এখন অলিম্পিকের আগে যত বেশি সম্ভব মানুষকে টিকার আওতায় আনতে চাইছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গতকাল মঙ্গলবার জানায়, জাপানে এক কোটির বেশি মানুষ ইতিমধ্যে অন্তত একটি ডোজ হলেও করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সুগা চলতি মাসের মাঝামাঝি থেকে দেশজুড়ে প্রতিদিন ১০ লাখ টিকা যেন দেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। এ ছাড়া তিনি চাইছেন, ৬৫ বছর কিংবা বেশি বয়সী সবাইকে যেন জুলাইয়ের মধ্যে টিকার আওতায় নিয়ে আসা যায়। মঙ্গলবার পর্যন্ত জাপানে টিকা নেওয়া মানুষের হার ছিল ৮ শতাংশের মতো এবং তাঁদের প্রায় সবাই দুটি টিকার মধ্যে প্রথমটি নিয়েছেন।

সরকারের এই হঠাৎ সচল হয়ে ওঠাকে অনেকেই অলিম্পিকের বোধোদয় বলে মনে করছেন। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে না আসার পাশাপাশি টিকাদানের ধীরগতির জন্য আগামী মাসের ২৩ তারিখ শুরু হতে যাওয়া অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আবারও স্থগিত কিংবা বাতিল করে দেওয়ার আহ্বান এখন জাপান ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য অনেক দেশ থেকে জোরদার হয়ে উঠছে। সরকার তাই মনে করছে, টিকাদানের গতি দ্রুত বাড়িয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভাইরাসের বিস্তার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারলে এ ধরনেরর সমালোচনা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

আত্মরক্ষা বাহিনীর টিকাদানকেন্দ্রের বাইরে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকাদানকেন্দ্র চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে জাপান সরকার। এ ছাড়া কর্মজীবী মানুষ যেন নিজেদের অফিস কিংবা কাজের অন্যান্য জায়গায় টিকা নিতে পারেন, সে ব্যবস্থা করে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে সরকারের এসব পদক্ষেপ সমালোচকদের মুখ বন্ধ করতে সক্ষম হবে বলে মনে হয় না। জাপানের নাগরিক সম্প্রচারকেন্দ্র এনএইচকে আজ বুধবার জানিয়েছে, টোকিও অলিম্পিকের আয়োজক কমিটি দেশের যেসব চিকিৎসককে অলিম্পিকের জরুরি চিকিৎসাকেন্দ্রের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মনোনীত করেছিল, তাঁদের অনেকেই এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার লাভ করতে থাকা অবস্থায় ব্যস্ততার দোহাই দিয়ে সেই দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।

অলিম্পিকের জন্য বিদেশের দর্শকদের ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাপান অনেক আগেই নিয়েছে। তবে তা সত্ত্বেও ধারণা করা হয়, সারা বিশ্বের বিভিন্ন জাতীয় দলের সদস্য, কর্মকর্তাসহ কম করে হলেও লাখ তিনেক মানুষ অলিম্পিক চলার সময় সার্বক্ষণিকভাবে টোকিওতে অবস্থান করবেন। তাঁদের মধ্য দিয়ে নতুন বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাসের বিস্তার যে একেবারেই হবে না, সেই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না।

ফলে অলিম্পিক আয়োজন করা নিয়ে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির দৃঢ় অবস্থান ধরে রাখা এবং টোকিওর আয়োজক কমিটির জানানো আকুতি সত্ত্বেও বলা যায়, এখনো অনেকটাই ঝুলে আছে অলিম্পিকের ভাগ্য।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button