কোভিড-১৯বাংলাদেশস্বাস্থ্য

করোনার বিটা ধরন শনাক্ত আরও তিনজনের দেহে

দেশে আরও তিন ব্যক্তির শরীরে করোনার ‘বিটা’ ধরন (দক্ষিণ আফ্রিকার ধরন) শনাক্ত হয়েছে। এই তিনজনের একজন ঢাকার, একজন কুমিল্লা ও আরেকজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা। তিনজনই পুরুষ। এ নিয়ে বাংলাদেশে ২৮ জনের দেহে করোনার এই ধরন শনাক্ত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার করোনাভাইরাসের জিনোমের উন্মুক্ত তথ্যভান্ডার জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটার (জিআইএসএআইডি) ওয়েবসাইটে বাংলাদেশে করোনার এই ধরন শনাক্তের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলাদেশে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসের পাঁচটি ধরন শনাক্ত হয়েছে। এগুলো হলো যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়ায় পাওয়া ধরন। এর মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার যুক্তরাজ্যের ধরনকে আলফা, ব্রাজিলের ধরনকে গামা, ভারতীয় ধরনকে ডেলটা, দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনকে বিটা এবং নাইজেরিয়ার ধরনকে ইটা নামকরণ করেছে।

জিআইএসএআইডির সর্বশেষ তথ্য বলছে, বাংলাদেশে এ পর্যন্ত বিটা ধরন শনাক্ত হয়েছে ২৮ জনের মধ্যে। ৪৪ জনের মধ্যে করোনার ডেলটা ধরন শনাক্ত হয়েছে। করোনার আলফা ধরন শনাক্ত হয়েছে ৮৪ জনের মধ্যে। বাংলাদেশে ইটা ধরন মিলেছে ১৫ জনের মধ্যে এবং করোনার গামা ধরনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে ১ ব্যক্তির মধ্যে।

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে গত বছর বিটা ধরনটি প্রথম পাওয়া যায়। এর নাম ‘৫০১.ভি২’। গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে প্রথম করোনার এই ধরনের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে। ঢাকার বনানীর ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর শরীরে এই ধরনটি পাওয়া যায়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের চরিত্র হচ্ছে এটি দ্রুত নিয়মিতভাবে রূপান্তর হয়। বিশ্বে করোনাভাইরাসের হাজারো মিউটেন্ট আছে। তবে গবেষকেরা দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া এই ধরন (ভেরিয়েন্ট) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারের গবেষকেরা বলছেন, করোনার জিনোম গবেষণায় তাঁরা ভারতীয় ধরন ডেলটা ও দক্ষিণ আফ্রিকার ধরন বিটা বেশি পাচ্ছেন। এই দুটি বর্তমানে অন্য ধরনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক। সংক্রমণের বেশি সক্ষমতার কারণে এটি ছড়াচ্ছেও বেশি।

যবিপ্রবি জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক মো. ইকবাল কবীর প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য দায়ী মূলত করোনার বিটা ধরনটি। এটিকে করোনার ‘উদ্বেগের ধরন’ (ভেরিয়েন্ট অব কনসার্ন) বলা হচ্ছে। করোনার টিকা নেওয়ার পরও এই ধরনটিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিটা ধরন মোকাবিলা করতে টিকার কী ডোজ প্রয়োজন, সেটি এখনো গবেষকেরা বের করতে পারেননি। এ নিয়ে সারা বিশ্বেই কাজ চলছে।

নতুন যে তিনজনের দেহে বিটা ধরন পাওয়া গেছে, তাঁদের মধ্যে ঢাকায় শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির বয়স ৫০ বছর। এ ছাড়া কুমিল্লায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ বছর বয়সী এক তরুণের শরীরে করোনার দক্ষিণ আফ্রিকার বিটা ধরনের অস্তিত্ব মিলেছে।

জিআইএসএআইডির তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত করোনার বিটা ধরনে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। এদের মধ্যে শিশুও আছে। বিটা ধরনে আক্রান্ত সবচেয়ে কম বয়সীদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক ছেলেশিশু আছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button