খেলাফুটবল

মরিনিও সাড়ে ২৫টি ট্রফি জিতেছেন

জোসে মরিনিও মানেই গণমাধ্যমের জন্য বাড়তি কোনো খবর। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা কোচ তো বটেই, তাঁর বাহারি চরিত্রটাও মরিনিওকে পরিচয় করিয়ে দেয় বিশেষভাবে। না হলে কি আর কোনো কোচ বলতে পারেন অর্ধেক ট্রফি জয়ের কথা! মরিনিও বলেই সেটা সম্ভব।

গত এপ্রিলে ইংলিশ ক্লাব টটেনহাম থেকে বরখাস্ত মরিনিও মৌসুম শেষে যোগ দিয়েছেন ইতালিয়ান ক্লাব রোমায়। আগামী মৌসুম থেকে ইতালিয়ান ফুটবল মাতাবেন কি না, তা সময় বলবে। তার আগে সংবাদমাধ্যম মাতিয়ে রাখলেন অদ্ভুতুড়ে এক কথায়। ৫৮ বছর বয়সী পর্তুগিজ কোচের চোখে, তিনি ক্যারিয়ারে সাড়ে ২৫টি ট্রফি জিতেছেন!

শিরোপার আবার অর্ধেক কীভাবে হয়? হয় পুরো শিরোপাই জেতেন, নতুবা জিতবেন না। কিন্তু মরিনিও অর্ধেক শিরোপার ব্যাখ্যা বের করেছেন তাঁর সর্বশেষ ক্লাব টটেনহাম থেকে। টটেনহামকে এবারের লিগ কাপের ফাইনালে তুলেছিলেন মরিনিও। কিন্তু ফাইনালের আগেই ক্লাব থেকে বরখাস্ত হন। সে কারণে দলকে ফাইনালে তোলাটাই মরিনিওর চোখে অর্ধেক শিরোপা!২০১৯ সালে টটেনহামের দায়িত্ব নেওয়ার পর লন্ডনের ক্লাবটাতে কিছুই জিততে পারেননি মরিনিও। ১৭ মাস ক্লাবটির দায়িত্বে ছিলেন, এই মৌসুমের দ্বিতীয় পর্বে ভালো করতে পারেনি দল। মৌসুমের শুরুর দিকে লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে একবার উঠেছিল বটে, কিন্তু এরপর শীর্ষ চারের বাইরেই ছিটকে পড়ে।গোটা কোচিং ক্যারিয়ারে এবারই প্রথমবারের মতো লিগে এক মৌসুমে ১০ ম্যাচ হারের মুখ দেখেছেন মরিনিও। শেষ পর্যন্ত এপ্রিলে তাঁকে বিদায় করে দেয় টটেনহাম। কিন্তু বিদায়টা সে সময় না হলে কি টটেনহামে একটা শিরোপা দিয়ে যেতে পারতেন মরিনিও?

কেইন, সনদের নিয়ে টটেনহামকে লিগ কাপের ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি, কিন্তু ফাইনালের ছয় দিন আগে বরখাস্ত হন। শেষ পর্যন্ত ২৫ এপ্রিলের সেই ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় টটেনহাম।  ইংলিশ পত্রিকা দ্য সানের সঙ্গে আলাপে মরিনিও বলেন, ‘আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, “ক্যারিয়ারে আপনি কতটি শিরোপা জিতেছেন?” আমি আপনাকে বলব সাড়ে ২৫টি ট্রফি। অর্ধেকটা হলো সেই ফাইনাল, যেটি আমি টটেনহামকে নিয়ে খেলতে পারিনি।’

কেন ফাইনাল খেলাই তাঁর চোখে অর্ধেক শিরোপা? ব্যাখ্যায় মরিনিও বললেন, ‘অনেক ফাইনাল খেলেছে, এমন যে কাউকে আপনি জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন, সবাই বলবেন “ফাইনালে খেলা একটা স্বপ্নের মতো!” সেটা আপনি আপনার প্রথম ফাইনালেই খেলুন, আর ২০তম বা ৫০তম ফাইনালেই খেলুন। ফাইনাল খেলা সব সময়ই স্বপ্ন।’

ফাইনালের ভেন্যু, সেখানে টটেনহামের মতো ক্লাবকে নিয়ে যাওয়া…সব মিলিয়ে এবারের লিগ কাপ ফাইনাল আরও রোমাঞ্চিত করেছিল মরিনিওকে, ‘ওয়েম্বলিতে ফাইনাল তো স্বপ্নের চেয়েও বেশি কিছু। ওয়েম্বলি স্টেডিয়াম নতুন করে হওয়ার পর সেখানে প্রথম ফাইনালটাতে আমার দল ছিল। যখনই সেখানে যাই, স্বপ্নের মতো লাগে। আর সেখানেই এমন একটা ক্লাব নিয়ে ট্রফি জেতার সম্ভাবনা নিয়ে যাওয়া, যে ক্লাব এর আগে খুব বেশি ট্রফি জেতেনি, সেটা তো দ্বিগুণ স্বপ্ন!’

ফাইনালের আগে তাঁকে এভাবে বরখাস্ত করায় টটেনহামের প্রতি তাঁর কোনো খেদ নেই বলেই জানালেন। তবে সেটি জানিয়েছেন মরিনিওসুলভ ঢঙে খোঁচা মেরেই, ‘আমি এমন একজন, যে কিনা একটা ক্লাব ছেড়ে আসার পর সে জায়গার প্রতি টান ভুলে যাই। সেখানকার মানুষকে শুভকামনা জানাই। মজা করেই আমি বলছি যে আমি সাড়ে ২৫টা ট্রফি জিতেছি। কারণ, এটা আমার ক্যারিয়ারে একটা বিশেষ ঘটনা হয়ে থাকবে, যে ফাইনালে আমি দলকে তুলে নিলাম, সে ফাইনালে যাওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও আমি সে ফাইনালে যেতে পারিনি।’

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button