ভারত

মাত্রাছাড়া করোনার মধ্যে কুম্ভমেলায় লাখো মানুষ

তদন্তে দেখা গেছে, একটি সংস্থা এক ফোন নম্বর দেখিয়েছে অন্তত ৫০ জনের নামে। এক ঠিকানায় নেগেটিভ সার্টিফিকেট দিয়েছে শত শত মানুষকে। একই অ্যান্টিজেন টেস্ট কিটে পরীক্ষা করেছে অন্তত ৭০০ জনকে, যেখানে একটি কিটে একজনের পরীক্ষা করার কথা। সংস্থাটি মুম্বাই, আলীগড়, কানপুর, আহমেদাবাদ, রাজস্থানের ভুয়া বাড়ির ঠিকানায় শত শত বাসিন্দার নামে রিপোর্ট ইস্যু করেছে।তদন্ত রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, এমন ভুয়া সার্টিফিকেটের সংখ্যা অন্তত এক লাখ। সর্বভারতীয় ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত এই খবর ভারতের কোভিড অব্যবস্থার করুণ চিত্রের পাশাপাশি দুর্নীতির এই ছবিও তুলে ধরেছে।

কিছুদিন আগে পাঞ্জাবের এক ব্যক্তির মুঠোফোনে কোভিড টেস্টের রিপোর্ট আসে। রিপোর্টটি হরিদ্বার থেকে পাঠানো, যেখানে করোনাকালে পুরো এপ্রিল মাস কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। ওই ব্যক্তি কুম্ভে যাননি। করোনা পরীক্ষাও করাননি। বিষয়টি তিনি মেডিকেল কাউন্সিলকে জানান। এরপরই শুরু হয় তদন্ত।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংস্থাটি নমুনা সংগ্রহকারী হিসেবে এমন ২০০ জনের নাম দেখিয়েছে, যারা সবাই ছাত্র এবং রাজস্থানের ডেটা এন্ট্রি কর্মী। তাঁদের কেউই হরিদ্বারে ছিলেন না। ওই কর্মকর্তার কথায়, এমন আরও আটটি সংস্থা রয়েছে, যাদের নমুনা সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাদের খোঁজ চলছে। ওই কর্মকর্তার কথায়, এই দুর্নীতি হিমশৈলের চূড়া হতে পারে।

কোভিড পরিস্থিতি ঘোরাল হয়ে ওঠার মুখে কুম্ভ মেলা করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। হিন্দুত্ববাদী শাসক দল বিজেপি নেতারা ওই মেলা বন্ধ করে হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত দিতে চাননি। উত্তরাখন্ড সরকারের শাসক বিজেপির নেতারা বলেছিলেন, কোনোভাবেই মেলা বন্ধ করা হবে না। গঙ্গার প্রবাহে করোনা ভেসে যাবে। গোটা এপ্রিল মাসে বিভিন্ন পুণ্যতিথিতে হরিদ্বারের গঙ্গায় স্নান করেন প্রায় এক কোটি পুণ্যার্থী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button