আফ্রিকাবিশ্ব

কেনিয়ায় খরা, গবাদিপশুর মৃত্যুর মিছিল

নন্দন নিউজ ডেস্ক: উত্তর আফ্রিকার দেশ কেনিয়া। জলবায়ু পরিবর্তনে বিপর্যয়ের মুখোমুখি দেশটি। বৃষ্টির অভাবে খরা দেখা দিয়েছে দেশটিতে। উত্তর কেনিয়ার ওয়াজির কাউন্টি এলাকার গ্রাম বিয়ামাডো। গ্রামটিতে রাস্তার দুপাশে যেন চলছে প্রাণীদের মৃত্যু মিছিল। ধুলোময় রাস্তার দুইপাশে সারিবদ্ধভাবে পড়ে আছে গবাদিপশুর মৃতদেহ।

তীব্র খরার কারণে ঝলসে যাওয়া সূর্যের নিচে পচনশীল প্রাণীদের বিভৎসের দৃশ্য তৈরি হয়েছে। এতে সেই এলাকার মানুষেরা বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে এসেছে। কেননা গবাদিপশুর উপর মূলত তাদের জীবিকা নির্বাহ নির্ভরশীল। বিয়ামাডো গ্রামের একজন বাসিন্দা ইব্রাহিম অ্যাডো। তিনি বলেন, ’৭২ বছরের জীবনে আমি এমন কিছু দেখিনি’। ইতিমধ্যে তিনি নিজেই তার অর্ধেকের বেশি গবাদিপশু হারিয়েছেন। যেগুলো অবশিষ্ট আছে সেগুলো রোগা এবং দূর্বল হয়ে পড়েছে এবং ঠিক মতো দুধ দিতেও সক্ষম নয়।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কেনিয়ার উত্তরাঞ্চলের বেশিরভাগ এলাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম হয়েছে। দূর্ভিক্ষ বিষয়ক সতর্ককারী সংস্থা ফেমিন আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম বলেছে, গত কয়েক দশকের রেকর্ডের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্বল্প বৃষ্টিপাতের মৌসুম। ফলে সেখানে খাবার এবং পাণির ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করেছে।

এদিকে গ্রামটির আরেকজন বাসিন্দা মনের ক্ষোভ থেকে বলেন, ‘কেউ তাদের নিতে চায় না’। গত চার মাসে গরুর দাম প্রায় কমে গেছে। ৪০ হাজার কেনিয়ান শিলিং (কেনিয়ার মুদ্রা) থেকে নেমে ৫ হাজারে এসেছে।

ইব্রাহিম অ্যাডো আরও জানান, খরা এই অঞ্চলে প্রায়ই দেখা দেয়। এতে অভ্যস্ত তারা। খরার এমন সময়ে তাদের প্রধান খাদ্য হয়ে উঠে ভুট্টা। কিন্তু পাণির অভাবে প্রাণীরা এতোটাই দূর্বল হয়ে পড়ে যে তাদের হাড়গুলি তাদের ত্বকের নিচ থেকে খোঁচা দেয়। তারা বৃষ্টিপাতের আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন। যেন সবুজ চারণভূমি এবং প্রাণীরা তাদের চাহিদা পুষিয়ে নিতে পারে।

দূর্যোগ বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছে, বছরের শেষের দিকে যদি বৃষ্টিপাত না হয় তবে এটি হবে ২০২০ সাল থেকে তৃতীয় টানা স্বল্প বৃষ্টির মৌসুম। খরার এমন পরিস্থিতিতে খাদ্যের অভাবের মধ্য দিয়ে দিন পার করে যাচ্ছেন সেখানের বাসিন্দারা। তবে গত অক্টোবর মাসে জাতিসংঘ জানিয়েছে, তারা অনুমান করছে কেনিয়ার ওয়াজিরসহ আরও বেশ কয়েকটি শুষ্ক এবং অর্ধশুষ্ক অঞ্চলগুলোর ২৪ লাখ মানুষকে খাদ্যের জন্য চরম সংগ্রাম করে যেতে হবে। তবে এই বছরেই ফেব্রুয়ারিতে এর সংখ্যা ১৪ লাখ ছিল।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button