এশিয়াবিশ্বভারত

ইউক্রেইনে রাশিয়ার আগ্রাসনের নিন্দা জানাতে ভারতের ওপর চাপ বাড়ছে

নন্দন নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর খারকিভে গোলাগুলিতে একজন ভারতীয় ছাত্র নিহত হওয়ার পর রুশ আগ্রাসনের নিন্দা জানাতে ভারতের ক্ষমতাসীন মোদী সরকার নিজ দেশেই চাপে পড়েছে। বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে।

ভারত এখনও প্রকাশ্যে তাদের পুরনো মিত্র এবং দীর্ঘদিনের অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ রাশিয়ার সমালোচনা করেনি। এর বদলে তারা মস্কো এবং কিয়েভকে শত্রুতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ভারতের এমন ভূমিকায় হতাশ যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মিত্রদেশগুলো।

ইউক্রেইনের যুদ্ধবস্থার মধ্যে হাজার হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী আটকা পড়ে আছে। তাদেরকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় সহায়তা করার জন্য রাশিয়ার ওপর ভারত সরকারের চাপ বাড়ানোর দাবি উঠেছে।

টুইটে এ নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেস পার্টির আইনপ্রণেতা পি চিদাম্বরম। তিনি বলেন, “ভারত সরকারের মুখে মুখে ভারসাম্য বজায় রাখা বন্ধ করা উচিত। ইউক্রেইনের প্রধান শহরগুলোতে বোমা হামলা অবিলম্বে বন্ধের জন্য কঠোরভাবে রাশিয়ার কাছে দাবি তোলা উচিত।”

গত সপ্তাহে ইউক্রেইনে রুশ অভিযানের নিন্দা প্রস্তাব নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোটাভুটিতে ভোটদানে বিরত ছিল ভারত। যদিও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ভারত কিছুটা হলেও সুর পরিবর্তন করেছে।

পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ ডুদার সঙ্গে এক ফোনালাপে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বের দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান দেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার একথা জানানো হয়েছে।

তাছাড়া, বেশ কয়েকটি বিষয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে কয়েক দশকের ইতিহাসকে উপেক্ষা করাও দিল্লির পক্ষে কঠিন।

ভারতকে সাহায্য করতে কাশ্মির প্রশ্নে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ভিটো দিয়েছিল রাশিয়া। সেইসঙ্গে ভারতের সামরিক সরঞ্জামেরও সিংহভাগ আসে রাশিয়া থেকে।

দিল্লির অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক হর্ষ পান্ত বলেন, “রাশিয়া যে অবস্থান নিয়েছে তা ভারতের জন্য খুবই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। কিন্তু  এ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা ভারতের জন্য কঠিন।”

তিনি বলেন, ভারতের সামরিক হার্ডওয়্যারের প্রায় ৬০% এখনও রাশিয়ার তৈরি। ফলে মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখা দিল্লির জন্য অপরিহার্য।

সম্পর্কিত নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button