এশিয়াবিশ্ব

কিয়েভের যুদ্ধক্ষেত্রেই বিয়ে দুই ইউক্রেন সেনার, আশীর্বাদ ক্লিচকোর

নন্দন নিউজ ডেস্ক: দুই দশক ধরে একসঙ্গে আছেন তাঁরা। বিধানিক বিবাহবন্ধনেই আবদ্ধ ছিলেন, হয়তো কোনো এক সময়ে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে সেটিকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতেন। কিন্তু লেসিয়া ইভাশেঙ্কো আর ভ্যালেরি ফিলিমোনভের সব পরিকল্পনা যে এভাবে নষ্ট হয়ে যাবে, তা কে জানত! ক্ষমতার খেলায় যেখানে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ জীবন হারাচ্ছে প্রতিদিন, সেখানে জীবনের সুখকল্পনাগুলোই তো এখন বিলাসিতা।

তবে ভ্যালেরি আর লেসিয়া চরম দুর্দিনেও একটু বিলাসিতার সুযোগ নিয়েছেন। কিয়েভে যেখানে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ চলছে ইউক্রেন সেনাবাহিনীর, রুশ সৈন্যদের অস্ত্র-গোলাবারুদকে উপেক্ষা করে যুদ্ধক্ষেত্রেই বিয়ে করেছেন দুজন।

সে বিয়েতে এসে আবার দুজনকে আশীর্বাদ করেছেন সাবেক হেভিওয়েট বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইউক্রেনিয়ান বক্সার ও বর্তমানে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো। রীতি মেনে নববধূকে শুভকামনাসূচক চুম্বনও দিয়েছেন তিনি।

মনকে উষ্ণ করে দেওয়া মুহূর্তটির ভিডিও টুইটারে দিয়ে ক্লিচকো লিখেছেন, ‘রাজধানী রক্ষার দায়িত্বে থাকা একটা ব্যাটালিয়নের দুজন সৈন্য লেসিয়া ও ভ্যালেরিকে আজ শুভেচ্ছা জানিয়ে এলাম। অনেক দিন ধরে বিধানিক বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ ছিল দুজন, এখন ওরা রীতি মেনে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একটি চেকপয়েন্টের পাশে অনুষ্ঠানটা হয়েছে। জীবন এগিয়ে যাবেই! আমরা কিয়েভকে বাঁচাব, কিয়েভাইটসকে, আমাদের রাজ্যকেও বাঁচাব।’

বেঁচে থাকাই তো এখন ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় সৌভাগ্য! লেসিয়া ও ভ্যালেরিও হয়তো যুদ্ধ থেকে একসঙ্গে বেঁচে ফেরা নিশ্চিত নয় বলেই ভেবেছেন, বাঁচা-মরা যা-ই থাকুক কপালে, অন্তত তার আগে একসঙ্গে থাকা তো হচ্ছে!

যুদ্ধের ১১তম দিনে কাল সঙ্গী সৈন্যদের উপস্থিতিতে, নিয়ম মেনে, ফুলে-হাসিতে সুরভিত বিবাহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন দুজন। বিয়েতে বড় উপহার হয়ে কিয়েভের মেয়র ক্লিচকোর উপস্থিতি তো ছিলই!

ক্লিচকো ও তাঁর ভাই – আরেক হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ভ্লাদিমিরের যুদ্ধে যাওয়ার গল্পই অনেক শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে।

তাঁদের পাশাপাশি হেভিওয়েটে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওলেক্সান্দর উসিকও দেশের ডাকে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছেন। এর আগে যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন আরেক বক্সার ভাসিলি লোমাচেঙ্কোও।

ক্লিচকো ভাইয়েরা তো ঘোষণাই দিয়ে রেখেছিলেন, দেশের জন্য মরতেও প্রস্তুত তাঁরা। ‘আমাদের দেশের মানুষ যে এত দেশপ্রেমিক, এটা দেখতেই ভালো লাগছে। রাশিয়ান সেনারা কত শক্তিশালী, এটা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথা নেই। আমরা লড়তে প্রস্তুত। আমাদের দেশ, আমাদের পরিবারের জন্য আমরা মরতেও প্রস্তুত। কারণ, এটাই আমাদের ঘর,’ সম্মুখযুদ্ধে যাওয়ার ঘোষণায় সিএনএনকে বলেছিলেন ক্লিচকো।

সম্পর্কিত নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button