ইউরোপএশিয়াবিশ্ব

ইউক্রেনের শরণার্থীদের নিয়ে ইউরোপের মধ্যেই মতবিরোধ

নন্দন নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেনের শরণার্থীদের নিয়ে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেই মতবিরোধ দেখা যাচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ইউক্রেনের শরণার্থীদের বিষয়ে যুক্তরাজ্য যে ‘বিশাল প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছিল তারা তা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউক্রেনের শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে না পারায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং তার সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তার অভিযোগ, বরিস জনসন বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার এবং যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করার ভান করেছিলেন। কিন্তু তিনি তাতে সফল হতে পারেননি।

ফ্রান্সের ভারসেইলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক সম্মেলন শেষে রাশিয়ার বোমা হামলা থেকে পালিয়ে আসাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সত্যিকার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন ম্যাক্রোঁ। তার মতে বরিস জনসন দায় এড়িয়ে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ইউক্রেন থেকে অন্তত ১২ লাখ ৪ হাজার ৪০৩ জন শরণার্থী পোল্যান্ডে প্রবেশ করেছেন, গত ৭ মার্চ পর্যন্ত ১ লাখ ৯১ হাজার ৩৪৮ জন শরণার্থী ইউক্রেন থেকে হাঙ্গেরিতে ঢুকেছেন। এছাড়া ইউক্রেনের সীমান্ত লাগোয়া আরেক প্রতিবেশী রোমানিয়া গত ৭ মার্চ পর্যন্ত ১ লাখ ৪৩ হাজার শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে।

প্রতিবেশী দেশ স্লোভাকিয়ায় গত ৭ মার্চ পর্যন্ত ১ লাখ ৪০ হাজার ৭৪৫ জন ইউক্রেনীয় শরণার্থী প্রবেশে করেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। যার আক্রমণে দেশছাড়া, সেই রাশিয়াতেই প্রবেশ করেছেন অন্তত ৯৯ হাজার ৩০০ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক। এছাড়া চেক প্রজাতন্ত্রে এ পর্যন্ত এক লাখের বেশি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন।

ইউক্রেন থেকে পালিয়ে আসা ৮২ হাজার ৭৬২ জন (৬ মার্চ পর্যন্ত) শরণার্থীকে ঢুকতে দিয়েছে ইউরোপের অন্যতম দরিদ্র দেশ মলদোভা। অপরদিকে প্রায় ৩০ হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থী জার্মানিতে পৌঁছেছেন এবং প্রায় আড়াই হাজার ইউক্রেনীয় শরণার্থী ফ্রান্সে পৌঁছেছেন। ইউক্রেন থেকে প্রায় ২ হাজার ২০০ শরণার্থী আয়ারল্যান্ডে পৌঁছেছেন এবং বেলারুশে আশ্রয় পেয়েছেন ৫৯২ জন ইউক্রেনীয়।

এদিকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বলছে, ৩০০ ইউক্রেনীয় শরণার্থীর ভিসা অনুমোদন করেছে তারা। এছাড়া আরও ১৭ হাজার ৭০০ জনের আবেদন পরীক্ষা করা হচ্ছে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে ব্রিটেন।

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, আমি আশা করছি যে ইউক্রেনীয় পুরুষ ও নারী যারা আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করেছেন এবং ইউরোপ পেরিয়ে যুক্তরাজ্যের ভূখণ্ডে পরিবারে কাছে পৌঁছাবেন তাদের সঙ্গে আরও ভালো আচরণ করা হবে।

সম্পর্কিত নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button