এশিয়াবিশ্ব

৪২ শতাংশ পাকিস্তানি ভাবে, ইমরানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব সফল হবে

নন্দন নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে পার্লামেন্টে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাব সফল হবে বলে মনে করছেন ৪২ শতাংশ পাকিস্তানি। আর ৪৪ শতাংশ পাকিস্তানি অনাস্থা প্রস্তাবের আগেই তাঁর পদত্যাগ চান। এক জরিপের বরাত দিয়ে গতকাল শুক্রবার দ্য নিউজ এসব কথা জানিয়েছে।

জিও টিভির এক অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, এক হাজার মানুষের ওপর চালানো জরিপে এমন চিত্র পেয়েছে জরিপ সংস্থা ইপসস। এতে অংশ নেওয়া ২৬ শতাংশ মানুষ মনে করেন, অনাস্থা প্রস্তাব ঠেকিয়ে দিতে সফল হবে সরকার। তবে ৩১ শতাংশ মানুষ অনাস্থা প্রস্তাবের ফলাফল সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেননি।

যদি অনাস্থা প্রস্তাব সফল হয়, সে ক্ষেত্রে ২৭ শতাংশ পাকিস্তানি মনে করেন শেহবাজ শরিফের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত। আর ১৭ শতাংশ বিলাওয়াল ভুট্টোকে এ পদে দেখতে চান। অবশ্য ৬ শতাংশের পছন্দ শহীদ খাকান আব্বাসিকে।

সাধারণ নির্বাচনের পর নওয়াজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে মনে করেন ১৮ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। ইমরান খানই আবার প্রধানমন্ত্রী হবেন মনে করছেন ১৬ শতাংশ মানুষ। ১৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন, শেহবাজ শরিফ প্রধানমন্ত্রী হবেন।

জরিপে অংশ নেওয়া মানুষের সর্বোচ্চ ৪৮ শতাংশ মনে করেন, অনাস্থা প্রস্তাবে ক্ষমতাসীন জোটের উচিত বিরোধীদের সমর্থন করা। অন্যদিকে, মাত্র ২৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জোটের উচিত ইমরান খানকেই সমর্থন দেওয়া।

অনাস্থা প্রস্তাবকে সামনে রেখে ইমরান খানের পদত্যাগ করা উচিত কি না—এমন প্রশ্নে ৪৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ‘হ্যাঁ’সূচক জবাব দিয়েছেন। আর ৩৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন, অনাস্থা প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তাঁর লড়ে যাওয়াই উচিত।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। এ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও ভোটাভুটির জন্য অধিবেশন ডাকতে স্পিকারের প্রতি লিখিত আবেদন জানিয়েছে তারা। স্পিকার ২২ মার্চের মধ্যে অধিবেশন ডাকতে পারেন। এরপর ভোটাভুটির জন্য সাত দিন সময় পাওয়া যাবে।

পাকিস্তানের সংবিধান অনুযায়ী, ৩৪২ সদস্যবিশিষ্ট নিম্নকক্ষে উত্থাপিত অনাস্থা প্রস্তাব পাসের জন্য প্রয়োজন ১৭২ ভোট। নিম্নকক্ষে পিটিআইয়ের আসনের সংখ্যা ১৫৫। এ কারণে জোটের শরিকেরা অনাস্থার পক্ষে ভোট দিলে ক্ষমতা ছাড়তে হবে ইমরান খানকে।

এদিকে বিরোধী জোটের দাবি, পিটিআইয়ের ২৮ আইনপ্রণেতা এবং সরকারি জোটের আরও কয়েকজন নেতার সমর্থন আছে তাদের সঙ্গে। সব মিলে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ২০২ সদস্যের সমর্থন থাকার দাবি করেছে তারা।

পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রীই মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। দেশটির রাজনীতিতে সামরিক বাহিনীর হস্তক্ষেপের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখেই ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে তারকা ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খানকে।

সম্পর্কিত নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button